
নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর প্রধান আসামি মো. বেলাল হোসেন ওরফে নান্টু ওরফে সুদি নান্টু (৫৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী এবং র্যাব-৪, সদর কোম্পানি, মিরপুর, ঢাকার যৌথ অভিযানে রবিবার (২৬ জুলাই) রাত ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার মিরপুর থানার আনসার ক্যাম্প সাফাখানার মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার (মামলা নং-১৮, তারিখ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫) প্রধান আসামি ছিলেন বেলাল হোসেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুর রহিম (৫৭) প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সোনাইমুড়ির আমিশাপাড়া বাজারে ‘মিতালী বেকারি’ নামে একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত বেলাল হোসেনের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ২৬ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ১০টার দিকে প্রধান আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা বেকারির সামনে এসে আব্দুর রহিমকে জোরপূর্বক বের করে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে আরও নির্যাতন করা হয় এবং একটি দোকানে আটকে রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বজরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ নভেম্বর ২০২৫ রাত ২টা ১০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে সোনাইমুড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. বেলাল হোসেনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকার মিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও কোম্পানি কমান্ডার মিঠুন কুমার কুণ্ডু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

