
নোয়াখালীতে বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
®সম্পাদকীয়®
<<< জহিরুল হক জহির >>>
বিদ্যুৎ বিল যদি নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সেবা কি নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য পাওয়া যাবে না?
নোয়াখালীবাসী অন্ধকারে নয়, আলোয় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়।
এ দাবি কোনো বিশেষ সুবিধার দাবি নয়; এটি একটি ন্যায্য নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থের প্রশ্ন?
এখনই সময়—লোডশেডিংয়ের অজুহাত নয়, কার্যকর সমাধান চাই।
বিদ্যুৎ আধুনিক জীবনের বিলাসিতা নয়—এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
অথচ নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—দিনের পাশাপাশি রাতেও যদি বারবার বিদ্যুৎ চলে যায়, তাহলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বাড়ে, অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনলাইনভিত্তিক কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠান—বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিটি কর্মকাণ্ডেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রশ্ন হলো, নোয়াখালীবাসী নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাবেন না?
লোডশেডিং যদি অনিবার্য হয়, তাহলে সেটির যৌক্তিক কারণ কী—তা জনগণকে জানানো প্রয়োজন।
আর যদি বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি, বিতরণব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, পুরোনো লাইন, ট্রান্সফরমারের সক্ষমতার ঘাটতি কিংবা ব্যবস্থাপনার কোনো দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে সেগুলোর সমাধানে দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়?
জনগণ শুধু আশ্বাস শুনতে চায় না; তারা কার্যকর সমাধান দেখতে চায়।
বিদ্যুৎ একটি সেবা। আর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের স্বাভাবিক প্রত্যাশা হলো—সেবা নির্ভরযোগ্য হবে, সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান হবে এবং কোনো কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে জনগণকে যথাযথভাবে অবহিত করা হবে।
বিশেষ করে হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা কোনোভাবেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে যদি কোনো রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হয়, কোনো ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ে কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নষ্ট হয়—তার দায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
আমরা মনে করি, নোয়াখালীর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা উচিত।
কোথায় কতক্ষণ লোডশেডিং হচ্ছে, এর কারণ কী, কোন এলাকায় সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা রয়েছে এবং কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করা যায়—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। যদিও পল্লী বিদ্যুৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মাঝে কিছু তথ্য দেয়, কিন্তু প্রতি ঘন্টায় কেন লোডশেডিং হচ্ছে ? সে তথ্য দেয় না। তারা বলে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছে না !
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, পুরোনো লাইন ও ট্রান্সফরমার সংস্কার বা প্রতিস্থাপন এবং ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
নোয়াখালীবাসীর কাছে বিদ্যুৎ কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি একটি প্রয়োজনীয় জনসেবা।
তাই অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হলে সেটিকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সহনীয় ও পূর্বপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
জনগণের প্রশ্ন খুবই স্পষ্ট—
বিদ্যুৎ বিল যদি নিয়মিত দিতে হয়, তাহলে বিদ্যুৎ সেবাও কি নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য পাওয়া যাবে না?
নোয়াখালীবাসী অন্ধকারে নয়, আলোয় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়।
এ দাবি কোনো বিশেষ সুবিধার দাবি নয়; এটি একটি ন্যায্য নাগরিক অধিকার ও জনস্বার্থের প্রশ্ন?
এখনই সময়—লোডশেডিংয়ের অজুহাত নয়, কার্যকর সমাধান চাই।

