
সম্পাদকীয়:
নোয়াখালী পৌরপার্কে আধুনিক ওয়াকওয়ে এখন সময়ের দাবি
<<< জহিরুল হক জহির >>>
একটি শহরের মান শুধু তার সড়ক, ভবন কিংবা অবকাঠামো দিয়ে নির্ধারিত হয় না; নাগরিকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মানসম্মত উন্মুক্ত বিনোদনস্থলও একটি আধুনিক নগর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সে দৃষ্টিকোণ থেকে নোয়াখালী পৌরপার্কের চারপাশে একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
প্রতিদিন শত শত মানুষ স্বাস্থ্যচর্চা, অবসর বিনোদন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটানোর জন্য পৌরপার্কে আসেন।
কিন্তু দীঘির চারপাশে পরিকল্পিত হাঁটার পথের অভাব, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি পার্কটির সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে দিচ্ছে না। একটি আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা, নিয়মিত নিরাপত্তা টহল এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে পার্কটি আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে পরিণত হতে পারে।
তবে উন্নয়ন যেন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ না থাকে। পার্কের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণ, শিশুদের জন্য নিরাপদ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। একটি পার্ক তখনই প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব হয়ে ওঠে, যখন সেখানে নিরাপত্তা, সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও সেবার সমন্বয় ঘটে।
দেশের বিভিন্ন শহরে আধুনিক ওয়াকওয়ে ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পার্কগুলো নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। নোয়াখালী পৌরপার্কেও এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে এটি শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্রই নয়, বরং স্বাস্থ্যচর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পৌরপার্কের আধুনিকায়ন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগ ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা। নাগরিকদের এই যৌক্তিক প্রত্যাশা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নোয়াখালী পৌরপার্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও আকর্ষণীয়, নিরাপদ ও আধুনিক এক উন্মুক্ত পরিসরে রূপ নেবে।

