
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রথমবারের মতো সুরাইয়া আক্তার লাকী নামে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোগদান করেছেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব বুঝে নেন সুরাইয়া আক্তার লাকী। হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের সময় নোয়াখালী জানান।
শনিবার বেলা ১২ টার দিকে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে এক আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সময় সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ কায়সার খসরুকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮২ সালে সামরিক সরকারের আমলে গঠিত হয় হাতিয়া উপজেলা পরিষদ। হাতিয়া উপজেলা পরিষদে এই প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন মো. মোজাম্মেল হক। হাতিয়ার ৩৭তম ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন সুরাইয়া আক্তার লাকী।
অনুষ্ঠানে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, হাতিয়ায় যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা সব সময় আমাদেরকে কথা মনে রাখেন। এখনকার মানুষ আতিথেয়তায় সেরা। আজকে সাবেক ইউএনওকে বিদায় দেওয়া হচ্ছে এটা আমাদের জন্য যেমন কষ্টের আবার নতুন করে প্রথম নারী ইউএনও কে বরণ করাও আনন্দের। উপজেলা পরিষদের সহযোগিতা সব সময় থাকবে আপনাদের জন্য। আমরা সুন্দর হাতিয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, হাতিয়া উপজেলা শান্তির জনপদ। আমরা সবাই মিলে এই হাতিয়াকে নিরাপদ রাখতে চাই। ঐক্যবদ্ধ থেকে হাতিয়ার জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, আমাদের স্পিকার নারী, আমাদের সংসদ সদস্য নারী, আমরা প্রথম নারী ইউএনও পেলাম। এটা আমাদের জন্য খুশির খবর।
প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ উপলক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী ঢাকা বলেন, হাতিয়া উপজেলাটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা। প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করে এই দ্বীপের মানুষের জীবনযাপন করতে হয়। প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে যোগদান করতে পেরে আমি আনন্দিত। তবে নারী অথবা পুরুষ এটি আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চাই।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠা করেছেন এটা তার একটা নজির। আমাদের সমাজে নারীরা পিছিয়ে নেই। আমাদের নোয়াখালী জেলায় বেশ কয়েকজন নারী ইউএনও রয়েছেন। আশা করি তার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন।
প্রসঙ্গত, নেত্রকোণা জেলায় জন্ম নেওয়া সুরাইয়া আক্তার লাকী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে ৩৪ তম বিসিএস এ প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পরিচালকসহ বেশ কিছু জেলায় দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

