ঢাকাশুক্রবার , ২১ জুলাই ২০২৩
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় নোয়াখালীর মুছাপুর ক্লোজার

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
জুলাই ২১, ২০২৩ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

জহিরুল হক জহির, নোয়াখালী >>> মুছাপুর ক্লোজার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রথম দেখাতে মনে হবে এটি সমুদ্র সৈকত। এখানে খুঁজে পাবেন নদীপাড়ে সাগরের আবহ। তাই এই ক্লোজার কে অনেকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে। মেঘনার কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় ছোট ফেনী নদীর তীরে নির্মিত মুছাপুর ক্লোজার এখন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।

 

মুছাপুর নদীর উপরে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এই ক্লোজার। ২০০৯ সাল থেকে কয়েক দফা বাজেট বরাদ্দ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেষ্টায় ২৩ ভেন্ট রেগুলেটর ক্লোজার টি নির্মাণ করা হয়। উত্তরে বামনি নদীর সঙ্গে পুরনো ডাকাতিয়া, নতুন ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী নদীর পানি সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হয় রেগুলেটরটি।

 

মুছাপুর ক্লোজার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সীমানায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে ছোট ফেনী নদীর উপরে অবস্থিত। এখানে সাগরের ডেউ, সবুজ প্রকৃতি, ফরেষ্ট বাগান ও বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির কোলাহল, জেলেদের উচ্ছ্বাস আর সাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি মিলে নয়াভিরাম এক অপরুপ সৌন্দর্যের মিলন মেলা।

 

সাগরের জোয়ারের পানি যখন উতলে উঠে তখন এক অপরুপ সৌন্দর্য বিকশিত হয় মুছাপুর নদীতে, সাগরের কিনারায় আছরে পড়ে ছোট-বড় ঢেউ। প্রায় ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৩ কিলোমিটার প্রস্থের সৈকত। এখানে আছে নদীর নৈসর্গিক দৃশ্য, নৌকা ভ্রমণের অসাধারণ আনন্দ, সকালের শান্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাখির কলতান, জেলেদের উচ্ছাস, গরু, মহিষ, ভেড়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির সৌন্দর্য্য ও বিকেলের হিমেল হাওয়া, ক্লোজারে আছড়ে পড়া ঢেউ, জোয়ার-ভাটা, ফরেস্টের ভিতরের প্রাকৃতিক দৃশ্য ডেকে আনে হাজার পর্যটক।

 

 

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসে এখানে। রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই। প্রবাসীরা দেশে আসলে অন্তত একবার হলেও মুছাপুরে ঘুরতে আসেন।

পর্যটকরা মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিক্সা ও নিজস্ব বাইকে চড়ে মুছাপুর সমুদ্র দেখতে আসেন বিনোদন প্রেমী হাজার হাজার মানুষ। কেউ স-পরিবারে, কেউবা আবার বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন।

 

সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখছেন অনেকেই। চমকৎকার ঢেউয়ের তালে তালে দুলতে থাকা জেলেদের নৌকার বহর, সাগরে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। ট্রলারে কিংবা স্পীডবোটে করে ঘুরছেন পর্যটকরা।

ইতোমধ্যে এটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি মনোমুগ্ধকর স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নতুন কোন দর্শনার্থী এখানে এলে প্রথম দেখাতে তার মনে হবে এটাই বুঝি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এখানেই খুঁজে পাবেন নদীপাড়ে সাগরের আবহ। এজন্যই অনেকে এটাকে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে অভিহিত করে থাকেন। প্রকৃতিক সৌন্দর্য ও বিকালের হিমেল হাওয়া, ক্লোজারে আছড়ে পড়া ঢেউ, সমুদ্রের জোয়ার দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ না হয়ে পারে না। নদীর মোহনায় নির্মিত ক্লোজারের (বাঁধ) পাশে নতুন ডাকাতিয়া, পুরনো ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী নদী নিষ্কাশন প্রকল্পের আওতায় খনন করা মাটির স্তূপ যেন কৃত্রিম পাহাড়। আশপাশের পাকা-কাঁচা সড়কগুলোর দুপাশে সারিবদ্ধ গাছ। এক কথায় অপরূপ সৌন্দর্য মিসৃত এই এলাকাটি দর্শনার্থীদের কাছে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

 

নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মনোরম প্রকৃতির টানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ছুটে আসেন। ক্লোজারের দুই পাশে আছে পাথরের গাঁথুনি, পাশে মুছাপুর রেগুলেটর। পাথর ও রেগুলেটরে বসে দর্শনার্থীরা উপভোগ করেন প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা। কয়েক বছর আগে নদীর ভাঙনে এখানকার মানুষের ভিটে-মাটি বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের দাবির মুখে এখানে ক্লোজার নির্মাণ করা হয়। ফলে এখানে এখন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে সকাল থেকেই নামে মানুষের ঢল নামে।

মুছাপুর ক্লোজার এলাকার চরের মধ্যে দক্ষিণ মুছাপুর মৌজায় ৮২১ দশমিক ৫৭ একর, চরবালুয়া (দিয়ারা) মৌজায় এক হাজার ৮৬১ দশমিক ১০ একর ও চরবালুয়া মৌজায় ৬শ দশমিক ১৫ একর সর্ব মোট তিন হাজার ২শ ৮২ দশমিক ৮২ একর বনবিভাগের জমি জুড়ে মনোরম বনাঞ্চল রয়েছে। এখানে পরিকল্পিত ভাবে ফরেষ্ট বাগানটি শুরু হয় ১৯৬৯ সালে।

ক্লোজারের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে বন বিভাগের বনায়ন। দুই পাশে সারিবদ্ধ ঝাউ গাছ। পশ্চিমে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। পানি যাতায়াতের জন্য খনন করা মাটির স্তূপে নির্মিত কৃত্রিম পাহাড়। মুছাপুরে বাড়তি এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শোভাবর্ধন করে পর্যটন কেন্দ্রটির চারপাশে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে বিভিন্ন রকমের বনজ গাছ। এই ফরেষ্ট বাগানে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া, পিটালী, খেজুর, লতাবল, গেওয়া, শনবলই, বাবুলনাটাই, আকাশমনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ। রয়েছে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির পাখির অভয়স্থল। শীতের মৌসুমে অতিথি পাখিরাও এখানে আসে।

কোন হিংস্র পশুর ভয় না থাকলেও বনে রয়েছে শিয়াল, বন বিড়াল, সাপ সহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু, পাখি। তবে সাপ গুলো নিশাচর। এছাড়া বন্য মহিষ, গরু, ভেড়া দেখা যায়।

বনের বাগানের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটু ভিতরে প্রবেশ করলে মনে হবে এ যেন আরেকটি নতুন জগত। বনের ভেতরেই প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এক খন্ড শীতল ছাঁয়া বিশিষ্ট মাঠ। ইচ্ছে করলে এখানে একটু জিরিয়ে নেয়া যায়। পাশে রয়েছে বিশাল সমুদ্র সৈকত। এখানকার প্রকৃতি পর্যটকদের কানে কানে যেন বলে দেয়, ভ্রমণ করো, উপভোগ করো, শিখো, মানুষ হও, প্রকৃত মানুষ হও। এসব নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যই টেনে আনছে দর্শনার্থীদের।

কর্মব্যস্ত জীবনে একটু ফুরসত মিলতেই অবসর কাটানোর জন্য নিরিবিলি স্থানের খোঁজ করেন সবাই। এজন্য আশপাশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে একদিনের ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ খোঁজেন অনেকেই। তাদের জন্য সেরা এক গন্তব্য হলো ‘মুছাপুর ক্লোজার’।

এইখানে আসলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কোলাহল, বিশাল সমুদ্র সৈকত, সূর্য্যদ্বয় ও সূর্যাস্ত সহ নানান সৌন্দর্যের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

নদীর তাজা ইলিশ মাছ, ইলিশ মাছের ডিম, গরু, ভেড়া ও মহিষের গোস্ত   দিয়ে ভাত খেতে পারবেন। আছে মহিষের দধি। নদীর তাজা মাছ ক্রয় করে নিতে পারবেন।

যুবক-যুবতী ও নব দম্পতিরা নদীর পাড় ও ফরেষ্ট বাগানের প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখতে আসে। পর্যটক ও প্রকৃতি প্রেমীরা ইচ্ছা করলে একদিনে মুছাপুর ক্লোজারে এসে ঘুরে যেতে পারে।

বর্তমানে এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমিদের উপছে পড়া ভিড় দেখা যায়। সকাল হলেই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শণার্থীরা প্রাইভেট কার, মাইক্রো বাস, নিয়ে চলে আসে মুছাপুর ক্লোজারের নদীর তীরে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বনভোজনের জন্য মাইক ও স্পিকার নিয়ে আসে। নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা বেশী বেড়াতে আসে এখানে।

 

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শাহেদ কিছুদিন আগে ফেসবুকে বন্ধুদের দেওয়া পোস্ট ও ছবি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সহপাঠীদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। নোয়াখালীতে ঘোরাঘুরির তেমন ভালো জায়গা নেই। এখানে এসে ভীষণ ভালো লেগেছে বলে জানান।

যোগাযোগ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে উন্নত হোটেল-মোটেল নির্মাণ হলে এখানে রাতেও থাকতেন পর্যটকরা। এসব ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যার আগেই স্থান ত্যাগ করতে হয় পর্যটকদের।

 

কয়েকজন পর্যটক বলেন, কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে স্থানটিকে পরিকল্পিত ভাবে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটন এলাকায় রূপান্তর করতে পারলে বিভিন্ন জেলা থেকে আরো বেশী পর্যটক আসবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো মজবুত হবে। এরই মধ্যে হাজার মানুষের সমাগম ক্লোজার এলাকাকে অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নতি, নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল-মোটেল নির্মাণসহ দর্শনার্থীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ এলাকা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

 

নোয়াখালীর মাইজদী থেকে ঘুরতে আসা সুজন নামের এক পর্যটক বলেন, এখানকার রাস্তা সঙ্কীর্ণতার কারণে যানজটের তিক্ত অভিজ্ঞতায় পড়তে হয়। তাছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের ভাল ব্যবস্থা নেই। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার ভালো ব্যবস্থা নেই । একই অভিযোগ করেন, সুমন, ফাহিম, হাছান সহ কয়েকজন পর্যটক ।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল বলেন, নোয়াখালীর জনপ্রিয় এই পর্যটন এলাকার রাস্তাটি অনেক সরু (প্রস্থ কম) হওয়ার কারণে অনেক সময় দূর্ঘটনা ঘটে। সড়কটি আরো প্রস্থ হলে ভালো হয়। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা জরুরী। কারণ ইতিমধ্যে অনাকাংক্ষিৎ কিছু ঘটনা ঘটেছে এখানে। যাহা বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

সড়কের বিষয়ে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বলেন, গত বছর সড়কটি চলাচলা অনুপযোগী ছিলো বিধায় পর্যটকরা কম আসতো।  তিনি নোয়াখালী মিডিয়া কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নোয়াখালী মিডিয়া’র নিউজ টি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি গোছর হওয়ার ফলে আমাদের নেতা সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কটি সংস্কার করে দিয়েছেন। যার ফলে এখন সুন্দর ভাবে হাজার হাজার পর্যটক এই রাস্তা দিয়ে মুছাপুর ক্লোজারে আসছেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শীগ্রই মুছাপুর ক্লোজার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সি আমির ফয়সাল বলেন, পর্যটকরা যেন আরামে বসতে পারে সে জন্য এখানে ৭টি ছাতা ও বেঞ্চ বসানো হচ্ছে।

নোয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ মিয়া বলেন, মুছাপুর ক্লোজার  পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য ২০১৫ সালে প্রধান বন সংরক্ষক বরাবরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন মানুষের সমাগম ও এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এই এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় কিনা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

যেভাবে আসবেন মুছাপুর ক্লোজারঃ নোয়াখালী জেলা শহর অথবা নোয়াখালীর যে কোন উপজেলা থেকে যে কোন গাড়ীযোগে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট বাজারে আসতে হবে। বসুরহাট বাজার থেকে মুছাপুর ক্লোজারে যাওয়ার দুই-তিনটি পাকা সড়ক রয়েছে। ওই সড়কগুলোর যে কোন একটি দিয়ে চলে যেতে পারেন প্রকৃতিক সৌন্দর্যের জগত মুছাপুর ক্লোজারে। দেশের যে কোনো স্থান থেকে ফেনীর দাগনভূঞা কিংবা নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট আসা যায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে খুব সহজে মুছাপুর ক্লোজারে আসা যায়।