ঢাকাসোমবার , ২৫ মে ২০২৬
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিখোঁজের আড়ালে হত্যাকাণ্ড: সম্পত্তির লোভে সৎ মা ও শিশুপুত্রকে হত্যা, দুই বছর পর রহস্য উদঘাটন

জহিরুল হক জহির
মে ২৫, ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে Criminal Investigation Department.

সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে সৎ মা কমলা খাতুন ও তার শিশু সন্তান নোমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

ঘটনার প্রায় দুই বছর পর প্রযুক্তিগত তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এই হত্যারহস্য।

দ্বিতীয় সংসার, নতুন স্বপ্ন >>>>

২০১২ সালের দিকে বিধবা কমলা খাতুন দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন বিপত্নীক আবুল কালাম আজাদকে। এটি দু’জনেরই দ্বিতীয় সংসার ছিল। পরে তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় একমাত্র ছেলে নোমান।

আবুল কালাম আজাদের প্রথম সংসারের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বর্তমানে তিনজন জীবিত রয়েছেন।

স্বামীর মৃত্যুর পরও কমলা খাতুন তার ছেলে ও সৎ সন্তানদের নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে।

নিখোঁজের জিডি ও বোনের সন্দেহ >>>>

২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভিকটিমের সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর সোনাইমুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ৯ মার্চ থেকে কমলা খাতুন নিখোঁজ এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে আসেন কমলা খাতুনের ছোট বোন রহিমা বেগম।

সৎ ছেলেদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি দেখে তার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

পরে তিনি ১৪ মার্চ নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সাগর, রাজু, শ্যামলী ও কাজলকে সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ডিবি থেকে সিআইডির হাতে তদন্ত >>>

প্রথমে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আবুল কালাম আজাদ মৃত্যুর আগে বসতবাড়িসহ প্রায় ৩০ শতাংশ জমি স্ত্রী কমলা খাতুন ও ছেলে নোমানের নামে লিখে দিয়েছিলেন।

বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই সম্পত্তি নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত।

তদন্তে আরও জানা যায়, বিদেশ থেকে ফিরে আসা সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর সম্পত্তি নিজেদের নামে ফিরিয়ে দিতে কমলা খাতুনকে চাপ দিচ্ছিলেন। এমনকি জমি বিক্রির টাকার ভাগ নিয়েও দ্বন্দ্ব চলছিল।

মোবাইল ফোন থেকেই পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র >>>

সিআইডি কমলা খাতুনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফোনটি ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই বাসার একসময়কার ভাড়াটিয়া ছিলেন মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম রাজন ওরফে রাজু। এরপরই তদন্তে নতুন মোড় নেয়।

গ্রেফতার ও ভয়াবহ হত্যার স্বীকারোক্তি >>>

২০২৬ সালের ২১ মে রাতে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার ভাটিকাশর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম রাজন ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করে সিআইডি।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে জিয়াউর রহমান সাগর ও সহযোগী আশিকুর রহমান টিপুকে গ্রেফতার করা হয়।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক তথ্য>>>

আসামিরা স্বীকার করে, সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে আগে থেকেই গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাতে কমলা খাতুন ও তার শিশু ছেলে নোমানের পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়।

গভীর রাতে তারা অচেতন হয়ে পড়লে গলায় গামছা পেঁচিয়ে, হাত দিয়ে গলা চেপে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর লাশ গোপনে পুঁতে ফেলা হয় এবং আলামত নষ্ট করতে ব্যবহৃত কাপড় ও গামছা পুড়িয়ে ফেলা হয়।

পুকুর সেচ দিয়ে দেহাবশেষ উদ্ধার >>>

গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ মে সিআইডি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুকুর সেচ ও খনন অভিযান চালায়।

পরে কমলা খাতুন ও শিশু নোমানের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

দেহাবশেষ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি >>>

গ্রেফতারকৃত তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে Criminal Investigation Department, Noakhali.