
ভূমিখেকোদের আতঙ্ক, সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক ছিলেন তিনি। নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার মানুষের মুখে এখনো উচ্চারিত হয় এক পরিচিত নাম—নিগার সুলতানা। দায়িত্ব পালনকালে সততা, কঠোরতা ও জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।
বিশেষ করে ভূমি দখল, জমির মাটি কাটা, বালু উত্তোলন, খাস জমি আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের কারণে ভূমিখেকো ও প্রভাবশালী দখলদারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলবাজি, সরকারি জমি দখল ও ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি ছিল সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা।
তবে নিগার সুলতানা দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু হয় কঠোর অভিযান। সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তিনি একের পর এক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তাঁর সময়ে সাধারণ মানুষ ভূমি অফিসে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পেতেন। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমে আসে এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগের দ্রুত সমাধান মিলত।
ফলে অল্প সময়েই তিনি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
কবিরহাট উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, “ম্যাডাম থাকাকালে ভূমিখেকোরা ভয় পেত। সাধারণ মানুষ সাহস পেত অভিযোগ করতে। এখনো মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।”
সচেতন মহলের মতে, একজন দক্ষ ও সৎ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড কীভাবে একটি উপজেলার প্রশাসনিক পরিবেশ বদলে দিতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ ছিলেন নিগার সুলতানা। তাই দায়িত্ব পরিবর্তনের পরও কবিরহাটের মানুষ তাঁকে এখনো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছে।

