
সম্পাদকীয়:
প্রতিবাদ হোক শালীন ভাবে, শিক্ষায় হোক মানের অগ্রাধিকার
(জহিরুল হক জহির)
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সম্প্রতি যে ধরনের অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেক নাগরিককে হতাশ করেছে।
মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের একটি মৌলিক অধিকার। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও শালীনতা, সৌজন্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা জরুরি।
কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার কোনো দাবিকে শক্তিশালী করে না; বরং তার গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়।
এমন অনেক বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনতেও অস্বস্তিকর। মত প্রকাশের নামে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার একটি শিক্ষিত সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
যদি প্রতিবাদের মূল উদ্দেশ্য শুধু “অটোপাস”-এর দাবি আদায় হয়, তবে সেটি শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, পরিশ্রম এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে।
শুধু একটি সার্টিফিকেট জীবনের সাফল্য নিশ্চিত করে না। কর্মজীবন ও বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন জ্ঞান, যোগ্যতা এবং দক্ষতা। তাই শিক্ষার মান উন্নয়ন, শালীন প্রতিবাদ এবং গঠনমূলক আলোচনাই হওয়া উচিত আমাদের অগ্রাধিকার।

