ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাংবাদিকদের মধ্যে অন্তর কোন্দল নিরসন জরুরি

জহিরুল হক জহির
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫ ৮:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

‎সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজের আয়না হিসেবে সাংবাদিকরা মানুষের দুঃখ-সুখ, রাষ্ট্রের সাফল্য-ব্যর্থতা এবং শাসন ব্যবস্থার জবাবদিহিতা জনসমুক্ষে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের নৈতিকতা, নিষ্ঠা ও সাহস সমাজের জন্য প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই মহৎ পেশার ভেতরে প্রায়শই দেখা যায় বিভেদ, অবিশ্বাস ও অন্তর কোন্দল। যার ফলে সাংবাদিক সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গণমাধ্যমের সামগ্রিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য প্রতিষ্ঠা শুধু পেশাগত নয়, গণতন্ত্র ও সমাজের স্বার্থেও জরুরি হয়ে উঠেছে।

‎সাংবাদিকদের মধ্যে কোন্দল বা বিভেদের কারণ বহুমাত্রিক— ‎দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণ যত প্রবল হয়েছে, সাংবাদিক সমাজেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। অনেক সময় সাংবাদিক সংগঠনগুলোও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাগত ঐক্য নষ্ট হয়।

‎সাংবাদিকদের অনেকেই আর্থিকভাবে অনিশ্চিত অবস্থায় থাকেন। চাকরির নিরাপত্তাহীনতা, বেতন বৈষম্য ও বিজ্ঞাপনের রাজনীতির কারণে পেশাগত অসন্তোষ জন্ম নেয়। এর ফলে পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।

‎সংগঠনের নেতৃত্ব, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা প্রতিষ্ঠানের পদ পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ পেশার স্বার্থকে ছাপিয়ে যায়। মালিকপক্ষও অনেক সময় সাংবাদিকদের বিভক্ত করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে থাকে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দ্বন্দ্ব গভীর হয়।

‎একটি শক্তিশালী সাংবাদিক সংগঠন থাকলে বিরোধ সহজে মীমাংসা সম্ভব। কিন্তু সংগঠনের মধ্যে স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের অভাবে সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং নতুন বিভাজন তৈরি হয়। সাংবাদিক সমাজের অন্তর্দ্বন্দ্ব শুধু সাংবাদিকদের ক্ষতি করে না, গোটা সমাজকেও প্রভাবিত করে। এতে পাঠক-দর্শকের কাছে সাংবাদিকদের মর্যাদা কমে যায়। ঐক্য না থাকায় পেশাগত দাবি আদায় কঠিন হয়। বিভক্ত সাংবাদিক সমাজকে দুর্বল করে শাসনকর্তা বা মালিকপক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়, কারণ তারা দেখে সাংবাদিকরা নিজেরাই বিভক্ত।

অন্তর কোন্দল নিরসন সম্ভব, যদি আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে এগানো যায়। ‎সাংবাদিকদের একটি বৃহৎ, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক সংগঠন দরকার, যেখানে সবাই সমান মর্যাদা পাবে। মতপার্থক্য থাকলেও তা আলোচনার টেবিলে সমাধান করতে হবে। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা হিংসাত্মক আচরণ নয়, বরং যুক্তি ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে সমাধান জরুরি। ‎সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃত্বে এমন মানুষ থাকতে হবে যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পেশার স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন।

‎সাংবাদিকদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত পেশাগত মর্যাদা, চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি বা দলাদলি নয়। সাংবাদিকদের মধ্যে নৈতিকতা, সহযোগিতা ও দলগত কাজের মানসিকতা গড়ে তুলতে নিয়মিত কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ দরকার। সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে মালিকপক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই কোন্দল নিরসনের সম্ভাবনা বেশি।

‎সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তির নয়, এটি একটি পেশা, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এই পেশার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই এখনই সময় অন্তর কোন্দল নিরসনের। সাংবাদিকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন, তবে কেবল তাদের মর্যাদাই বাড়বে না, গণতন্ত্র ও সমাজও লাভবান হবে। অতএব বলা যায়- ‎সাংবাদিকদের মধ্যে অন্তর কোন্দল নিরসন সময়ের দাবিই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।