
সাংবাদিকরা প্রতিদিন মানুষের সুখ–দুঃখ, সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের গল্প সবার সামনে তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা জাতির চোখ ও কান। কিন্তু কি অদ্ভুত ব্যাপার— যাঁরা সবার কথা বলেন, তাঁদের নিজের কষ্ট, ভোগান্তি বা ঝুঁকির কথা তেমন কেউ বলে না।
মাঠে, ঘাটে, পথে-প্রান্তরে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা প্রায়ই বিপদে পড়েন। কখনো শারীরিক হামলা, কখনো হুমকি–ধমকি। আবার কখনো সংবাদ প্রকাশের দায়ে জীবন ঝুঁকিতে পড়েন সাংবাদিকরা। তবুও তারা থেমে থাকেন না। কারণ তাঁদের কাছে দায়িত্বই বড়, ভয়কে পাত্তা দেন না তারা।
বেশীরভাগ সাংবাদিকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। অনেক সংবাদমাধ্যমে বেতন কম, চাকরির নিরাপত্তা নেই। মাসের পর মাস বেতন আটকে থাকলেও সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশের দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন। সমাজের কল্যাণ তাঁদের কাছে সবকিছুর উপরে।
সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ান। দুর্যোগে, দারিদ্র্য বা অন্য সামাজিক সমস্যার কথা তুলে তাঁরা সহায়তার হাত পৌঁছে দেন। কিন্তু যখন নিজেই বিপদে পড়েন, তখন সাহায্য আসে খুবই কম। সামাজিক সুরক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা বা আইনি নিরাপত্তা প্রায়ই তাঁদের জন্য অদৃশ্য রূপ নেয়।
সত্য প্রকাশের এই অক্লান্ত যাত্রায় সাংবাদিকদের অবহেলা সমাজের জন্য দায়িত্বের অভাবের প্রতিফলন। যদি তাঁদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য বেতন–ভাতা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সাংবাদিকতার মান ও দায়বদ্ধতা দুটোই শক্তিশালী হবে।
সাংবাদিকরা সবার জন্য অক্লান্তভাবে কাজ করেন। তাদের দুঃখ–কষ্টও যাতে সরকারের নজরে আসে, সমর্থন পায়—এটাই প্রয়োজন। কারণ শক্তিশালী সাংবাদিক সমাজকে সচেতন রাখে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালায় এবং আমাদের বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার প্রতীক হয়ে থাকে।

