
নোয়াখালীর কবিরহাটে ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন ) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার কবিরহাট বাজারের হাসপাতাল রোডের জননী হাসপাতাল ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের রাজবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রতন দেবনাথ (৫২) উপজেলার চাপরাশীরহাট ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের রাজবাড়ির মনোরঞ্জন দেবনাথের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, নিহত রতন পেশায় একজন পান দোকানদার ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার স্ত্রী মনিকা রানী দেবনাথ কবিরহাট বাজারের জননী হাসপাতালের আয়া হিসেবে কাজ করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালের পাশে পান দোকান করতেন।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে জননী হাসপাতালের উত্তর পাশে স্বামীকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার এবং স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে ভিকটিম জননী হাপাতালের ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা যায়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে মরদেহ সৎকার করতে বাড়িতে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা।
খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ নেই।
এটা হত্যা, নাকি আত্মহত্যা তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ভিকটিম মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। সিসি টিভির ফুটেজে দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভবনে উঠছে। এরপর ১টা ৯ মিনিটের দিকে তার মরদেহ নিচে পড়ে থাকতে দেখে তার স্ত্রী।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ছাদ থেকে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় অথবা ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার ডান হাত আর বাম পা ভাঙ্গা ছিল। নিহতের বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

