
বাংলাদেশে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে বিষধর সাপের কামড়ের কার্যকর চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম (Antivenom) রয়েছে।
তবুও দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অনেক পরিবার এখনও রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর করে। এই ভুল সিদ্ধান্তের কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, আর অনেক ক্ষেত্রেই একটি জীবন অকালেই ঝরে যায়।
সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা কোনো অলৌকিক ক্ষমতার বিষয় নয়; এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়। তাই ঝাড়ফুঁক, মন্ত্র পড়া বা অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে চিকিৎসা হিসেবে প্রচার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
রাষ্ট্রের উচিত দেশব্যাপী আরও ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা, যাতে মানুষ বুঝতে পারে—সাপে কাটলে একমাত্র নিরাপদ পথ হলো দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া।
একই সঙ্গে, কেউ যদি চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে, রোগীকে হাসপাতালে যেতে নিরুৎসাহিত করে বা ভুয়া চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়, তবে প্রচলিত আইনের আওতায় ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তবে আইন প্রয়োগ অবশ্যই প্রমাণ, তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী বলা যায় না। কিন্তু যদি প্রমাণিত হয় যে প্রতারণামূলক বা অবহেলাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণে রোগীর ক্ষতি হয়েছে, তাহলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
একটি সভ্য সমাজে কুসংস্কারের নয়, বিজ্ঞানের জয় হওয়া উচিত। একটি জীবনও যেন অজ্ঞতা, ভয় বা ভুল বিশ্বাসের কারণে হারিয়ে না যায়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মনে রাখুন:
“সাপে কাটলে ওঝা নয়, দ্রুত হাসপাতালে যান—সময়মতো চিকিৎসাই জীবন বাঁচায়।”

