
নোয়াখালীতে তেলের জন্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে, প্রায় প্রতিটি তেলের ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে কিলোমিটারজুড়ে গাড়ীর লাইন।
জ্বালানি তেলের চলমান সংকটে নোয়াখালীতে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সীমিত সরবরাহের কারণে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চিত্র এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে এই সংকটকে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়েছেন কর্মজীবি বাইকাররা। প্রতিদিন প্রখর রোদের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের কে। সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়েছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীরা।
জেলার বেশীরভাগ ফিলিং স্টেশনে সপ্তাহে মাত্র ২-৩ দিন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তেল সরবরাহের দিন ভোর থেকেই সড়কের দুই পাশে প্রায় অর্ধ কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেলের সারি দেখা যায়। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন গুলোকেও একই লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লাইনে দাঁড়ানোদের বড় অংশই জরুরী সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি বিশেষ। পেশাজীবীরা বলেন, এই ভিড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারাই, যাদের কাজের জন্য মোটরসাইকেল অপরিহার্য।
চিকিৎসক ডাক্তার সাগর আহমেদ চৌধুরী বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় রোগাক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় দ্রুত পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে সেবাপ্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
কুরিয়ার সার্ভিস এর ডেলিভারিম্যান হাসান বলেন, সকালে লাইনে দাঁড়িয়েছি, দুপুর হয়ে গেছে এখনো সামনে অসংখ্য বাইক। ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. আজিজুর হক জানান, গত কয়েকদিন ধরে তেলের অভাবে মাঠপর্যায়ের কাজ করতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো ভাড়া করা যানবাহনে যেতে হচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক রাসেল চৌধুরী বলেন, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়েও কয়েকদিন তেল পাইনি, তারপর গিয়েছি স্থানীয় তেলের ডিলারদের দোকানে, সেখানে গিয়েও তেল পাইনি, তাই এখন মোটরসাইকেল বাড়ীতে রেখে অটোরিকসায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, স্থানীয় ডিলার থেকে খুচরা দোকানিরা তেল সংগ্রহ করে লুকিয়ে বেশী দামে বিক্রি করছে।
এতে করে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকে তেল নিতে পারছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী বলেন, প্রায় ৫ দিন পর সীমিত পরিমাণ তেল পেয়েছি। প্রতিটি মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। আলাদা করে পেশাজীবীদের জন্য কোনো নির্দেশনা নেই।
জেলার বাসিন্দা তাজুর ইসলাম বলেন, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, পেশাজীবীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ, লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র যাচাই, এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোটরসাইকেল চালনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তদারকিতে তারিখ, সময় ও স্থান নির্দারন করে তেল বিক্রি করলে জনমনে স্বস্তি আসবে।

