
নোয়াখালীর হাতিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের গাড়িবহরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝি ও আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হাতিয়া উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গেলে এই হামলা চালানো হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, এ হামলার জবাবে হান্নান মাসউদের সঙ্গে থাকা এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ করতে গেলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এসময় কয়েকটি ককটেলের বিস্পোরণ হয়। এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে থাকা ১০টির বেশি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং তাদের কয়েক জন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করা হয় বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের মহড়া দিতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার গাড়িবহর নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল মাঝির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি করে ও হামলা চালায়। হামলার মুখে প্রথমে পিছু হটলেও পরে হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে এনসিপি কর্মীরা পুনরায় একত্র হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে একাধিকবার সংঘর্ষ হয় এবং ১০ জনের মতো আহত হয়। পরে আব্দুল হান্নান মাসউদ প্রকল্প এলাকায় তার নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান করেন।
জাতীয় যুবশক্তির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক মো.ইউসুফ বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের ওপর এভাবে হামলা করা হয়েছে, অথচ পুলিশ সেখানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
প্রশাসনের এমন রহস্যময় ভূমিকা আমাদের অবাক করেছে। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীর বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসব বিষয়েও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, হামলাকারী সন্ত্রাসী বেলাল মাঝিকে গ্রেফতার করা না পর্যন্ত আমি এখান থেকে অবস্থান ছাড়বো না। সে ২০১৮ সালেও সাবেক এমপি ফজলুল আজিমের ওপর হামলা করেছিল।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, আমাদের পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা বিষয়টি সম্পূর্ণ না জেনে কোনও মন্তব্য করবো না।

