
একেতো বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের জীবন, আয় রোজগার নেই, তার প্রয়োজনীয় খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি ফলে মানুষের জীবন-যাপন কঠিন হয়ে গেছে। বেশীরভাগ মানুষ ধারকর্য করেই চলছেন। গত বছরের বন্যায় মানুষ ত্রাণ পেয়েছে, কিন্তু এবার কোন ত্রাণও পায়নি। সবচেয়ে বেশী কষ্টে রয়েছেন নিম্নমধ্যবিত্তরা।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নোয়াখালীর বিভিন্ন বাজারে, বিশেষ করে চৌমুহনী, মাইজদী বাজার, পৌর বাজার’সহ নোয়াখালীর সব উপজেলার গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
টানা বর্ষণ এবং সবজির সরবরাহ কমে যাওয়াতে এই মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। এর মধ্যে কাঁচা মরিচের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) চৌমুহনী পাইকারি বাজার’সহ অন্যান্য উপজেলা ও গ্রামীণ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজি ছড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধন্দুল, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, এবং করলা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, জালি কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কাঁচা মরিচের দামে, যা বর্তমানে প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও বেশী।
সবজির পাশাপাশি মুরগির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চৌমুহনী বাজার ও মাইজদী পৌর মার্কেটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৮০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম ১০-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি ডজন ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও গ্রামের বাজার গুলোতে এই দাম ৫-১০ টাকা বেশি।
মাইজদী পৌর বাজারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে আসা সুমন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, গত কয়েকদিন নোয়াখালী পৌর বাজারে পানি ছিল।
এখন বাজার করতে এসে দেখি সবজি থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম বাড়তি। আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি, আমার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমি কীভাবে চলবো ? আসলে সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা উচিত, কিন্তু এই উদ্যোগ কখনোই নিতে দেখা যায়নি। ফলে বিক্রেতারা যেমন ইচ্ছা তেমন দাম আদায় করছে সাধারণ ক্রেতাদের থেকে। আজ এক পোয়া কাঁচা মরিচ কিনলাম ৯০ টাকায়!
বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন তাদের দুর্দশার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে এই বাজারে পানি ওঠার কারণে ব্যবসা করতে পারিনি। আজ দুইদিন হলো মাল কিনেছি দাম বাড়তি দাম দিয়ে।
বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে।
এর মূল কারণ, বেশ কিছু সবজির ইতোমধ্যে মৌসুম শেষ হয়েছে, এ কারণে বাজারে সরবরাহ কম । এর সঙ্গে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজি নোয়াখালীতে তুলনামূলক কম আসছে। সরবরাহ কম থাকার কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজির দাম বাড়তি।
চৌমুহনী গোলাবাড়িয়ার কাঁচা মরিচ বিক্রেতা রাজিব হাসান সরাসরি বৃষ্টির প্রভাব উল্লেখ করে বলেন, বৃষ্টি হলে কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধি পায়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে আবার প্রভাব পড়েছে। আজকে নোয়াখালীতে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায়, সাধারণ মানুষ দ্রুত বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

