
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে পূর্ব শক্রতার জের ধরে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত মো. জসিম (৩৫) উপজেলার আমিশা পাড়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সাত ঘরিয়া গ্রামের সর্দার বাড়ির মনু মিয়ার ছেলে।
সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের সাতঘরিয়া গ্রামের সর্দার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন। তিনি জানান, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘরে ঢুকে দুর্বৃত্তরা জসিমকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় বজরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জসিম এর স্ত্রী নাছিম আক্তার জানান, বিকেল ৪টার দিকে জসিম গোসল করে খাবার খেতে প্রস্তুত হচ্ছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী বরপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সায়মন ৩ যুবক নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় সায়মন আমার স্বামীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এর আগে রবিবার ভোর ৫টার দিকে সায়মনসহ ৩ যুবক এসে জসিম উদ্দিনকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিয়ে যায় বলে জানান নাছিমা আক্তার।
তিনি আরো বলেন, গত ৩ মাস পূর্বে জসিম উদ্দিনের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয় বলে দাবি করেন তার স্ত্রী। ১ মাস পূর্বে সায়মনের একটি মোটরসাইকেল জসিম উদ্দিন নিয়ে যায় পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি বাড়ীতে ছিলেন না। স্ত্রী নাছিমা আক্তারের সাথেও যোগাযোগ রাখেননি বলে জানান নিহতের স্ত্রী নাছিমা আক্তার। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বখতিয়ার উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিন আগে এলাকা থেকে এক লোকের মোটরসাইকেল চুরি হয়। এটা নিয়ে নিহত জসিমের সাথে অপর একটি পক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। যে ছেলে গুলি করেছে গতকালও (রোববার) সেই ছেলে নিহত জসিমকে তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসে। আর আজকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ওসি বখতিয়ার আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের নাম ঠিকানা জানা গেছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

