ঢাকাসোমবার , ২৪ জুন ২০২৪
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নোয়াখালীতে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে

হাতিয়া প্রতিনিধি
জুন ২৪, ২০২৪ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একটি মাছঘাটে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা গেছে। সাপটি আক্রমণ করতে এলে তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষায় সাপটি মেরে ফেলেন স্থানীয়রা।

গতকাল রোববার (২৩ জুন) দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের তমরদ্দি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। মাছ ঘাটের দায়িত্বে থাকা থাকা আলা উদ্দিন ও মেহেরাজ বলেন, গতকাল রাত আনুমানিক দেড়টার সময় একটা লোক নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে বাজারে যাচ্ছিলেন। তখন রাসেলস ভাইপার সাপটি দেখতে পান। সাপটি তাকে আক্রমণ করতে এলে সাথে সাথে লোকটি চিৎকার চেঁচামেচি করে অনেক লোক জড়ো করে ফেলেন। তখন তারা সাপটিকে ঘিরে ফেলে এবং আক্রমণ করতে এলে মেরে ফেলে।

 

মিলন হোসেন নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, খুবই দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে রাসেলস ভাইপারের মতো বিষধর সাপ তমরদ্দি মাছঘাটে চলে এসেছে। বিভিন্ন খবরে এমনিতেই আমরা আতঙ্কিত হয়ে আছি। নিজ এলাকায় এই সাপটি দেখেও আমরা আতঙ্কিত।

 

জানা গেছে, রাসেলস ভাইপার সাপটি খুবই বিষধর। ২০১৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার বরেন্দ্র গ্রামে এক কৃষককে এবং গত বছর রাজশাহীর তানোর এবং নওগাঁর ধামইরহাটে আরও দুইজনকে এই সাপটি কামড় দেয়। চিকিৎসাধীন থাকার পরও তাদের শরীরে পচন ধরে যায়। পচন ধরা অংশ কেটে ফেলার পরও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

উপকূলীয় বন বিভাগ নোয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপটি খুবই বিষধর এবং দুর্লভ সাপ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলায় এটি দেখা যাচ্ছে। পাশা-পাশি নোয়াখালীতেও দেখা গেল।

 

তমরদ্দি মাছ ঘাটে পিটিয়ে মারা সাপটি রাসেলস ভাইপার। এর আগে ডিসেম্বর মাসে প্রথম হাতিয়ায় সাপটি দেখা যায়। আমরা জীবিত উদ্ধার করে গবেষণার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠিয়েছি। এই ধরনের বিষধর সাপ দেখতে পেলে বিশেষজ্ঞদের জানানোর পরামর্শ দিচ্ছি। সাধারণ মানুষকে সাপের কাছে না যাওয়ার অনুরোধ করছি।

 

এদিকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে রাসেলস ভাইপার সন্দেহে বেশ কয়েকটি সাপ পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। সব মিলিয়ে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর ৯ উপজেলায় বিষাক্ত সাপ রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, জরুরি ভিত্তিতে জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল এবং ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হাতিয়ায় ৫০ ভায়াল (১০ ইনজেকশনে এক ভায়াল) মজুত রয়েছে।

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাজাহান সাজু বলেন, শুক্রবার রাতে আমাদের পাশের এলাকা চর কাঁকড়ার উকিল পাড়া এলাকার মসজিদের পাশে মুসল্লিরা একটি সাপ পিটিয়ে মারে। যা দেখতে অবিকল রাসেলস ভাইপারের মতো। এরপর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

হাতিয়ার বাসিন্দা আমির হামজা বলেন, আজ সকালে উপজেলার চর ঈশ্বর ইউনিয়নের কাজীর বাজার এলাকায় একটি সাপ পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাতিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাম কানু দাশের বাড়িতে একটি সাপ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর সাপ দুটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

 

নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, প্রত্যেক উপজেলা হাসপাতাল সহ নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে। সাপ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, প্রয়োজন সচেতনতা।

সাপে কাটলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন। তবে ওঝা বা ঝাড় ফুঁকের অপেক্ষা করে কালক্ষেপণ করা যাবে না। সাপে কাটা স্থানে কোনো মলম বা মালিশ লাগানো উচিত না। অনতিবিলম্বে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে এক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।