
মোহাম্মদ ছানা উল্যাহ, নোয়াখালী প্রতিনিধি >>> নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সিঁধ কেটে মা-মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার সময় ভুক্তভোগী গৃহবধূর বরাত দিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.রফিকুল ইসলাম। এর আগে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নে ঘরের সিঁধ কেটে চুরি করতে ডুকে মা-মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তিন চোরের মধ্যে দুইজন ওই গৃহবধূকে (২৯) গণধর্ষণ করে। আপর একজন তার মেয়েকে (১২) ধর্ষণ করে। এসময় তাদের ঘর থেকে একজোড়া করে কানের দুল, নাক ফুল ও নগদ ১৭হাজার ২২৫ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে চর কাজী মোখলেছ গ্রামের ভুক্তভোগীদের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী ৩ সন্তানের জননী ও নির্যাতিত শিশু স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে হাতিয়া থেকে এসে চরকাজী মোখলেছ গ্রামে নতুন বাড়ি করে এক দিনমজুর।
ওই বাড়িতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান’সহ একা বসবাস করতেন। দিনমজুর মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গেলে ২-৩দিন পর বাড়ি ফিরে আসতেন।
গত দুই দিন আগে কাজের সন্ধানে তিনি বাড়ির বাইরে যান। বাড়িতে তিন মেয়েকে নিয়ে ছিলেন ওই গৃহবধূ।
রাত ২টার দিকে ঘরের সিঁধ কেটে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে একজন। পরে সে ঘরের দরজা খুলে দিলে আরও দুইজন ভিতরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে দুই জন পালাক্রমে ওই গৃহবধূকে এবং একজন তার মেয়েকে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে ওই গৃহবধূর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ঘরে থাকা স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা।
গভীর রাতে শিশুদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে গৃহবধূর বাঁধন খুলে দেয় এবং বিষয়টি চরজব্বার থানায় অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পুলিশ ওইস্থানে ছিলো।
সকালে ভুক্তভোগীদের থানায় আনা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে এবং আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গতকাল সোমবার বেলা ১২টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা জজ) ফাতেমা ফেরদৌস ওই দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সাথে তাদের অর্থদন্ডও করা হয়। এ উপজেলা গণধর্ষণের জন্য দেশব্যাপী বারবার আলোচনায় আসছে।

