
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে ইসমাইল হোসেন আসিফ (২২) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা আসিফকে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।
সোমবার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের ( কল্লা মার্কেট সংলগ্ন ) হাজী ইসলাম মিস্ত্রির বাড়ির লোকমান মিয়ার বিল্ডিং এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসিফ বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর ৯নং ওয়ার্ড়ের সৈয়দ আলী পাটোয়ারী বাড়ির জয়নাল উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একলাশপুর ইউনিয়নের হাজী ইসলাম মিস্ত্রি বাড়ির লোকমান মিয়ার ঘরে বন্ধুর নিকট থেকে তার নিজের মোবাইল আনতে যায় আসিফ। ওই ঘরে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর ওই ঘর থেকে চিৎকার দিয়ে বের হয়ে ঘরের সামনে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যায় সে।
নিহতের পিতা জয়নাল উদ্দিন বলেন,আমার ছেলের লাশের গোসল করানোর সময় তার পিঠে, হাতে, পেটে, এবং পায়ে উপরের অংশে অনেক গুলো কোপের দাগ দেখেছি। ধারনা করছি এগুলো চুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার গায়ে জ্যাকেট, শার্ট ও টিশার্ট পরা থাকায় চুরি দিয়ে এত গুলো আঘাত করার পরও যখন তাকে মারতে পারেনি, তখন বটি দিয়ে তার ঘাড়ে কোপ দিয়ে আমার একমাত্র ছেলেকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাগিনা বলেন,ঘরের ভিতর চুরি দিয়ে কোপানোর পর তিনি ওই ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে এসে ওই ঘরের সামনে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পরও তারা আমার মামাকে বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘাড়ে ও পিঠে একাধিক কোপের কারনে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তারপর হত্যাকারীরা আমাদের দৌড়াতে থাকে। ভাগ্যক্রমে আমরা দৌড়ে পালিয়ে আসতে পেরেছি।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এলাকার লোকজন আসতে শুরু করলে হত্যাকারী চার বন্ধু দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহত আসিফের বড় বোন কুলসুম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আসিফ তার বন্ধু সৈকত সহ এলাকায় আড্ডা দিতো। তার ধারণা আসিফের হাতের মূল্যবান (৭০ হাজার টাকা মূল্য) মোবাইল ফোনটি নিতে তার বন্ধুরা তাকে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করছেন। ( ভিডিও লিংক) https://fb.watch/puDvVBjRcS/
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যে নিহত হয়েছে এবং ওই ঘরটিতে যারা থাকতো তারা সবাই পূর্বপরিচিত বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে জেনেছি।
ধারালো চুরি ও বটি দিয়ে হত্যাকারীরা আসিফের ঘাড় কোপ দেওয়ার কারনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

