ঢাকামঙ্গলবার , ২১ অক্টোবর ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সন্তান হচ্ছেনা অনেক দম্পতির: কারণ, প্রভাব ও করণীয়

জহিরুল হক জহির
অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক ও আনন্দময় অধ্যায় হলো সন্তান জন্মদান। কিন্তু আজকের আধুনিক সমাজে বহু দম্পতি এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় বন্ধ্যত্ব (Infertility)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ দম্পতি সন্তান জন্মদানে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাংলাদেশেও এই হার ক্রমেই বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক একটি সামাজিক ও মানসিক বাস্তবতা।

বন্ধ্যত্বের কারণ: ‎সন্তান না হওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ নেই, বরং একাধিক জৈবিক, মানসিক ও পরিবেশগত কারণ একসঙ্গে কাজ করে।

পুরুষের কারণ: ‎প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে সমস্যাটি পুরুষের মধ্যে থাকে। শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, গুণগত মান নষ্ট হওয়া, জন্মগতক্রুটি, হরমোনের অসামঞ্জস্যতা, ধূমপান, মাদক ও অ্যালকোহল গ্রহণ ইত্যাদি প্রধান কারণ। এছাড়া মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপনও প্রভাব ফেলে।

‎নারীর কারণ: ‎নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), ডিম্বাণু নির্গমনে সমস্যা, ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক, জরায়ুর বিকৃতি, অতিরিক্ত ওজন কিংবা বয়সজনিত হরমোন ভারসাম্যহীনতা বন্ধ্যত্বের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

‎যৌথ বা পরিবেশগত কারণ: ‎বর্তমান জীবনধারা, দেরিতে বিয়ে, মানসিক চাপ, দূষণ, প্লাস্টিক ও কীটনাশকের প্রভাব—সব মিলেই প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: ‎বাংলাদেশের মতো সমাজে সন্তান না হওয়া মানে কেবল চিকিৎসাজনিত সমস্যা নয়, পারিবারিক কলহ, সামাজিক চাপ ও মানসিক যন্ত্রণা। ‎আত্মীয়-স্বজনের কটূ মন্তব্যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনেক দম্পতি। বিশেষ করে নারীরা সামাজিকভাবে-অন্যায়ভাবে দায়ী হন। ‎ফলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, হতাশা এমনকি বিষণ্ণতা তৈরি হয়। ‎এই পরিস্থিতিতে দম্পতিদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানসিক শক্তিই হতে পারে প্রথম ও প্রধান চিকিৎসা।

‎করণীয় ও সমাধানের পথ : (১)চিকিৎসকের পরামর্শ- ‎সন্তান না হলে প্রথমেই স্বামী-স্ত্রীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানো জরুরি। শুধু নারীর নয়, পুরুষেরও পরীক্ষা সমানভাবে প্রয়োজন। গাইনোকোলজিস্ট বা ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

(২) জীবনযাপনে পরিবর্তন- নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধে সহায়ক। ধূমপান, মাদক, ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন পরিহার করা জরুরী।

‎(৩) আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি- ‎বর্তমানে টেস্ট টিউব বেবি (IVF), ইনসেমিনেশন (IUI), সারোগেসি ইত্যাদি উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অসংখ্য দম্পতি সন্তান লাভ করছেন। এসব চিকিৎসা ব্যয়বহুল হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে বহু পরিবারকে।

‎(৪) সামাজিক সহায়তা- ‎বন্ধ্যত্ব কোনো অপরাধ নয়, এটি চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। সমাজে সচেতনতা, সহানুভূতি ও মানসিক সমর্থনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

‎সন্তান না হওয়া কোনো অভিশাপ নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা, ধৈর্য্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা। এই ৪টি উপাদানই পারে বন্ধ্যত্বের অন্ধকার কাটিয়ে নতুন জীবনের আলো দেখাতে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি আজ  সময়ের দাবি।