
দেশের উন্নয়ন শুধু নতুন সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; টেকসই, পরিকল্পিত ও সমন্বিত অবকাঠামো নির্মাণই প্রকৃত উন্নয়নের পরিচায়ক।
অথচ আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের কিছুদিন পরই পানির লাইন, গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপনের অজুহাতে সেই সড়ক আবার খুঁড়ে ফেলা হয়। কাজ শেষে পুনরায় সংস্কার করা হলেও কিছুদিন পর আবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
এ ধরনের সমন্বয়হীন কর্মকাণ্ড একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় ঘটায়। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে যানজট, ধুলাবালি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি এবং মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়া এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
একটি আধুনিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রে সড়ক নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা—সড়ক বিভাগ, পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ, গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ বিভাগ, টেলিযোগাযোগ সংস্থা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গুলো – যদি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করে। ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে সড়কের নিচে ইউটিলিটি করিডোর বা নির্দিষ্ট ডাক্ট নির্মাণ করা হয়, যাতে পরবর্তীতে মেরামত বা নতুন সংযোগ দেওয়ার জন্য পুরো সড়ক খুঁড়ে ফেলতে না হয়। তবেই সকল সমস্যার সমাধান হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রে কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তি, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর যোগসাজশে পরিকল্পনাহীন প্রকল্প গ্রহণ এবং বারবার সংস্কারের মাধ্যমে অনিয়ম ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। তাই এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখনই একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রতিটি সড়ক নির্মাণের সময় ভবিষ্যতের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োজন একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
তাহলে একই সড়ক বারবার খোঁড়ার সংস্কৃতি বন্ধ হবে, জনগণের ভোগান্তি কমবে এবং রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পিত উন্নয়নই টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি। জনগণের করের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে, এটাই প্রত্যাশা। অপচয় ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নয়, বরং সুশাসন, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

