ঢাকামঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারি ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. ইসলামী বিধান
  9. কবিরহাট
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. কোম্পানীগঞ্জ
  12. খামার
  13. খেলাধুলা
  14. চাকুরি
  15. চাটখিল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নোয়াখালীতে ভেঙ্গে দেয়া ইটভাটা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে আবার চালুর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
জানুয়ারি ২১, ২০২৫ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার ৭নং বাটইয়া ইউনিয়নের জাফর আহম্মদের মালিকীয় দয়ারামদি মৌজার ৩৮২ শতাংশ ফসলিজমি জোরপূর্বক দখল করে ইটভাটা (একতা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ) স্থাপনের প্রতিবাদে ও দখলমুক্তের দাবিতে স্বৈরাচারের দোষর আনোয়ার হোসেন মিরন গং এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী ফসলীজমির মালিকরা।

মঙ্গলবার (২১জানুয়ারী) সকাল ১০টায় ভুক্তভোগী ফসলীজমির মালিক এর বাড়ীতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফসলিজমির মালিক ভুক্তভোগী জাফর আহম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, ভেঙ্গে দেয়া ইটভাটা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে আবার চালু করেছে তারা। গত ৪/৫ সপ্তাহ থেকে ইটভাটার মালিক পূনরায় নতুন করে কম উচ্চতার চিমনি তৈরী করে ইট ফোঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, বিগত প্রায় ১৫ বছর যাবত আমার ৩৮২ শতাংশ চাষকৃত ফসলী জমির উপর একতা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং এর মালিক আনোয়ার হোসেন মিরন জোর করে জবরদখল করে ইটেরভাটা তৈরি করে রেখেছে।

আমি তাকে বিভিন্ন সময় আমার জমি ছেড়ে দিতে বল্লে সে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।

প্রায় ৫বছর আগে বিষয়টি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে জানালে মিরন গং বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে- “আমার জমি জোর করে লিজ চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করে নেয়”। চুক্তিপত্র অনুযায়ী লিজ এর মেয়াদ গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও তারা আমার জমির দখল ছাড়েনি, বন্ধ করেনি ইটভাটা।

এখন চাষাবাদের সময়, আমি আমার জমিতে চাষাবাদ ও কৃষি খামার তৈরি করার জন্য তাকে জমির দখল ছেড়ে দিতে বল্লে- সে আমার জমির দখল ছেড়ে না দিয়ে উল্টো আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মিরন ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন মহলে বলছে “প্রশাসনকে ২কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে (একতা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং) ইটভাটা চালু করেছি’ এখন তোরা যতই চেস্টা করো ইটভাটা বন্ধ করতে পারবিনা, আর তোদের জমিও পাবিনা”।

জমির মালিক মামুন বলেন, ইট ভাটাটি প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত। এই ইটভাটাতে প্রকাশ্যে গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরী করা হয়। যাহা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংবাদ মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরী করার কারণে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে জনস্বাস্থ্য। ইটভাটার আশেপাশে বসত বাড়ি-ঘর, স্কুল, মাদ্রাসা, সমজিদ, মোক্তব’সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইটভাটা পুরোপুরি বন্ধের দাবী জানান তিনি।

ভুক্তভোগী জমির মালিক তাজউদ্দিন বলেন, একতা ইটভাটার মালিক আনোয়ার হোসেন মিরন জোরপূর্বক আমাদের ফসলীজমি দখল করে ঘনবসতিপূর্ন এলাকায় ইটভাটা নির্মান করেছে।
এই ইটভাটার সরকারী কোন অনুমোদন নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। অবৈধ এই ইটভাটা বন্ধের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিন দাবী জানিয়ে মানবব্ন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। মানবব্ন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ প্রায় অর্ধশত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়ায় প্রচার হওয়া পর, গত ২ডিসেম্বর কবিরহাট উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও চুলায় ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পানি দিয়ে ইটভাটার চিমনি ভেংগে দিয়ে বন্ধ করে দেয় এবং ইট তৈরী করতে মালিককে নিষেধ করেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

কিন্তু গত ৪-৫ সপ্তাহ থেকে ইটভাটার মালিক পূনরায় নতুন করে কম উচ্চতার চিমনি তৈরী করে ইট ফোঁড়াচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ এই ইটভাটা বন্ধের দাবী জানিয়ে আসলেও ইটভাটা বন্ধ হয়নি। বরং ইটভাটাটি বন্ধের দাবী জানানোর কারণে তারা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও প্রাননাশের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা চাই পরিবেশবান্ধব গাছ বিনাশকারী ও পরিবেশ দুষনকারী এই অবৈধ ইটভাটা দ্রুত পুরোপুরি বন্ধ করে আমাদের ফসলীজমি গুলো দখলমুক্ত করে দেওয়া হোক। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান ভুক্তভোগী ফসলীজমির মালিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একতা ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মালিক আনোয়ার হোসেন মিরণ বলেন, আমি জমির মালিকদের কাছে কয়েক মাস সময় দাবি করেছি। এরপর আমি নিজেই ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছি। তবে আমি পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিহিংসার শিকার।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও ) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন বলেন, এই ইটভাটা অবৈধ এটা সবাই জানে। কিছু দিন আগে ওই ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে চিমনি ঘুড়িয়ে দেওয়া হয়। নতুন করে চিমনি বসিয়ে ইট পোড়ানোর খবর পেয়েছি। পুনরায় সেখানে অভিযান চালানো হবে।