
ইসলাম বিয়েকে শুধু সামাজিক প্রথা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ এবং পবিত্র চুক্তি হিসেবে দেখে।
অভিভাবকের দায়িত্ব কী? :
ইসলামে বাবা-মা বা অভিভাবকের দায়িত্ব হলো মেয়ের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে উপযুক্ত পাত্র নির্বাচন করতে সাহায্য করা। কিন্তু এই ক্ষমতা তাদের জন্য একটি আমানত, এটি ব্যক্তিগত জেদ, অহংকার বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উপায় নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের কাছে যদি এমন ব্যক্তি আসে যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয়, তাহলে তার সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করো। যদি তা না করো, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।”
এই হাদিস থেকে আলেমগণ বুঝিয়েছেন যে, পাত্র নির্বাচনে দ্বীনদারিতা ও চরিত্রকে প্রধান বিবেচনা করা উচিত; বংশ, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা বা অহংকারকে নয়।
অযথা বিয়েতে বাধা দেওয়া >
যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কোনো দ্বীনদার ও চরিত্রবান পাত্রকে বিয়ে করতে চান, আর অভিভাবক শুধু বংশ, অর্থ, সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিগত রাগ বা জেদের কারণে বিয়েতে বাধা দেন, তাহলে ইসলামী ফিকহে এটিকে “আদল” (عضل) বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:
“তোমরা তাদেরকে তাদের স্বামীদের সঙ্গে বিবাহে বাধা দিও না, যখন তারা পরস্পর সম্মত হয় ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে।”
(সূরা আল-বাকারা ২:২৩২)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, বৈধ ও উপযুক্ত বিয়েতে অযথা বাধা সৃষ্টি করা নিন্দনীয়।
মেয়ের সম্মতির গুরুত্ব >
ইসলামে নারীর সম্মতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“বিধবা নারীর ব্যাপারে তার মতামত গ্রহণ করা হবে, আর কুমারী নারীর অনুমতি নেওয়া হবে।”
অর্থাৎ, মেয়ের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।
বাবা-মায়ের জন্য সতর্কবার্তা >>>
অনেক সময় দেখা যায়:
- “আমাদের পরিবারের মানের নয়”
- “আরও ধনী পাত্র পাব”
- “আমার কথাই শেষ কথা”
- “লোকজন কী বলবে”
এ ধরনের কারণে ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
যদি এর ফলে মেয়ের বিয়ে দীর্ঘদিন আটকে যায়, মানসিক কষ্ট বাড়ে বা উপযুক্ত সুযোগ নষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবকদের আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কারণ সন্তানের অধিকার রক্ষা করা তাদের দায়িত্ব।
তবে সব বাধা অন্যায় নয় >
ইসলাম এটাও বলে যে, যদি পাত্র:
- নামাজ-রোজায় উদাসীন হয়,
- চরিত্রগত সমস্যা থাকে,
- মাদকাসক্ত হয়,
- সহিংস বা প্রতারক হয়,
- ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে অনুপযুক্ত হয়,
তাহলে অভিভাবক বিয়েতে আপত্তি করতে পারেন। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি তাদের কর্তব্য।
ভারসাম্যপূর্ণ ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি >
তবে ইসলাম যাহা চায় না:
- বাবা-মা একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিক;
- আবার সন্তানও পরিবারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুক।
বরং পরামর্শ (শূরা), পারস্পরিক সম্মান, দ্বীনদারিতা এবং বাস্তব কল্যাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
সুতরাং, যদি কোনো পরিবার শুধুমাত্র অহংকার, সামাজিক মর্যাদা, বংশগৌরব বা ব্যক্তিগত জেদের কারণে মেয়ের উপযুক্ত বিয়ে বারবার ভেঙে দেয় বা আটকে রাখে, তাহলে তা ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, প্রকৃত কল্যাণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে যৌক্তিক আপত্তি করা অভিভাবকের বৈধ অধিকার ও দায়িত্ব।
আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকওয়া, চরিত্র ও ন্যায়বিচার—অহংকার বা সামাজিক প্রদর্শন নয়।

