
মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, প্রাচুর্য-অভাব সবকিছুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় যে, রিজিকের ফয়সালা আসমান থেকেই হয়।
মানুষ চেষ্টা করবে, পরিশ্রম করবে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে। অথচ আমরা অনেক সময় ভবিষ্যতের চিন্তা, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা জীবনের নানা অনিশ্চয়তা নিয়ে অযথাই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এই অতিরিক্ত পেরেশানি মানুষের মনকে অস্থির করে তোলে এবং জীবনের স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
একজন মুমিনের অন্যতম গুণ হলো সন্তুষ্টি। যখন মানুষ বিশ্বাস করে যে “আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, সেটাই তার জন্য উত্তম” তখন তার অন্তরে প্রশান্তি আসে। সন্তুষ্টি মানে অলসতা নয়; বরং চেষ্টা করার পর আল্লাহর ফয়সালার ওপর ভরসা রাখা।
বর্তমান অবস্থাকে মেনে নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকা মানুষকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।
বর্তমান যুগে মানুষ বড়-বড় স্বপ্ন আর ভোগবিলাসের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের ছোট-ছোট আনন্দ ভুলে যাচ্ছে। অথচ পরিবারের সাথে কাটানো কিছু সময়, মায়ের মুখের হাঁসি, বন্ধুর সাথে গল্প কিংবা এক কাপ চায়ের মুহূর্ত এসবই একসময় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিতে পরিণত হয়। জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোই আসলে অসাধারণ হয়ে ওঠে, যদি মানুষ তা উপলব্ধি করতে শেখে।
দুশ্চিন্তা মানুষের শক্তি কমিয়ে দেয়, কিন্তু আল্লাহর প্রতি ভরসা মানুষকে সাহসী করে তোলে। তাই আমাদের উচিত অযথা পেরেশান না হয়ে পরিশ্রম করা, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা এবং নিজের অবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। কারণ জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে শান্তি, কৃতজ্ঞতা এবং সাধারণ মুহূর্তগুলোর মাঝেই।

