
নোয়াখালীতে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে তেলবাহী একটি লরি দোকানে ঢুকে গেছে। এ ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা কবিরহাট-সোনাপুর সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কবিরহাট উপজেলার কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মমিনুল হকের ছেলে শফিকুর রহমান (৬২) । আহতরা হলেন, নিহতের দুই ছেলে আবদুস সালাম (২৩), সাইদুর রহমান (২০) এবং ব্যবসায়ী সোহাগ।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকায় নিজেদের দোকানে আসেন শফিকুর রহমান ও তার দুই ছেলে। বেলা ১১টার দিকে দুই ছেলেকে বাজারে পাঠানো নিয়ে দোকানের সামনে বসে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় সোনাপুর থেকে ছেড়ে আসা ‘যমুনা’ নামের একটি তেলবাহী লরি তাদের চাপা দিয়ে পাশের সোহাগের দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুর রহমান মারা যান।
স্থানীয় লোকজন আহত তিনজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক- শফিকুর রহমানের দুই ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।
দুর্ঘটনার পরপরই চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
এদিকে সড়কে গতিরোধক না থাকায় ক্ষোভ জানিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম ও কবিরহাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। ভবিষ্যতে এই মোড়ে স্পিডব্রেকার বা ফুটওভার ব্রিজ স্থাপন করা হবে—এমন আশ্বাসে লোকজন অবরোধ তুলে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটি উন্নয়নের পর সড়ক বিভাগের অবহেলার কারণে কোনো স্পিডব্রেকার দেওয়া হয়নি। অথচ এই এলাকায় চার-পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করে।
তারা আরো বলেন, গাড়ির চালক ঘুমে থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তেলবাহী গাড়িটিসহ চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

