
বর্তমান সমাজে “ডিভোর্স” বা বিবাহবিচ্ছেদ একটি সাধারণ শব্দে পরিণত হয়েছে। একসময় যেখানে এটি ছিল সামাজিক লজ্জা, আজ সেখানে এটি অনেকের জীবনের বাস্তবতা। প্রশ্ন একটাই— কেন দিন দিন বাড়ছে ডিভোর্সের হার? এর পেছনে রয়েছে সামাজিক, মানসিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণ।
গবেষণার সারসংক্ষেপ:
গত ৯ মাস ধরে ২৪৫ জন তালাকপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের ওপর পরিচালিত একটি বাস্তব গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তাদের জীবন অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির ভিত্তিতে সম্পর্ক ভাঙার মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ডিভোর্সের মূল কারণ:
গবেষণায় দেখা গেছে, ৭২% ক্ষেত্রে ডিভোর্সের কারণ হলো ভুল বোঝাবুঝি, অহংকার ও পারস্পরিক অসম্মান।
১৮% ডিভোর্সের মূল কারণ পরকীয়া সম্পর্ক।
১০% ঘটেছে স্ত্রীর অতিরিক্ত বিলাসিতা ও অবাস্তব চাহিদার কারণে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৭৮% ক্ষেত্রে নারী দায়ী, আর ২২% ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষ।
ডিভোর্সের পর অনুশোচনা:
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৯২% নারী ও পুরুষই বলেছেন—
> “সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল… যদি আরেকটু ধৈর্য ধরতাম!”
অর্থাৎ, বেশিরভাগ মানুষই ডিভোর্সের পর বুঝতে পারেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা যথেষ্ট ছিল না।
ডিভোর্সের পর নারীদের অবস্থা:
৮৯% নারী দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে পারেননি।
৪% নারী নিজের ইচ্ছায় আর বিয়ে করেননি।
৭% নারী সমাজের অবহেলায় ভুল পথে গিয়েছেন।
এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখায়, ডিভোর্স নারীর সামাজিক অবস্থান ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
ডিভোর্সের পর পুরুষদের অবস্থা:
৮৫% পুরুষ দ্বিতীয়বার বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছেন।
১৩% পুরুষ বিয়ে নিয়ে অনাগ্রহী।
২% পুরুষ পথভ্রষ্ট জীবনে জড়িয়ে পড়েছেন।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দ্বিতীয় বিয়েতে ৬৭% পুরুষ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করেছেন, অথচ নারীরা মাত্র ০.১% ক্ষেত্রে কুমার পুরুষ পেয়েছেন।
দ্বিতীয় বিয়ের বাস্তবতা:
১২% নারী দ্বিতীয় বিয়েতেও তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন।
৮৯% নারী দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।
২% পুরুষ দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দিয়েছেন,
আর মাত্র ৩% পুরুষ দ্বিতীয় সংসারে অসুখী।
গবেষণায় দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার ডিভোর্স দেওয়া পুরুষদের স্ত্রীদের বেশিরভাগই আগের তালাকপ্রাপ্ত নারী ছিলেন। তবে যারা বিধবা নারীকে বিয়ে করেছেন, তাদের মধ্যে ৯৩% সংসারই সুখী হয়েছে।
উপসংহার:
ডিভোর্স শুধু দুটি জীবনের বিচ্ছেদ নয়; এটি একটি পরিবারের স্বপ্ন ভাঙে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে, এবং সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
পরিবার টিকে থাকে বোঝাপড়া, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের ওপর।
তাই সম্পর্কের টানাপোড়েনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন ধৈর্য ও পারস্পরিক সম্মান।
> ভালোবাসা টিকে থাকে ক্ষমা ও সহমর্মিতায়, অহংকারে নয়।

