ঢাকারবিবার , ২ নভেম্বর ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. কবিরহাট
  9. কৃষি ও কৃষক
  10. কোম্পানীগঞ্জ
  11. খেলাধুলা
  12. চাকুরি
  13. চাটখিল
  14. চাঁদপুর
  15. জাতীয়

বিবাহ বিচ্ছেদ: কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ

জহিরুল হক জহির
নভেম্বর ২, ২০২৫ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

বিবাহ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয়, বরং দুটি পরিবারের, দুটি হৃদয়ের এবং দুটি জীবনের মিলন। কিন্তু আধুনিক সমাজে বিবাহ বন্ধন অনেক সময় টিকে থাকে না। নানা কারণে দেখা দেয় দাম্পত্য জীবনের অস্থিরতা, যার ফলাফল হয় বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স। এটি শুধু স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনে নয়, বরং সন্তান, পরিবার ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।

বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ: বিবাহ বিচ্ছেদের অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব অন্যতম। যখন স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে বোঝার চেষ্টা না করে, তখন সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক সমস্যা সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য বা বেকারত্ব দাম্পত্য জীবনে চাপ সৃষ্টি করে।

তৃতীয়ত, অবিশ্বাস ও পরকীয়া অনেক সম্পর্কের ভাঙনের মূল কারণ। বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে তা পুনর্গঠন করা কঠিন।

চতুর্থত, পারিবারিক হস্তক্ষেপ যেমন শ্বশুরবাড়ির বা অন্য আত্মীয়ের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করে।

এছাড়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, সন্তান জন্ম সংক্রান্ত সমস্যা, এবং আধুনিক জীবনের অতিরিক্ত ব্যস্ততা ও স্বার্থপরতা বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক সময় নারী-পুরুষ উভয়েই আত্মসম্মান রক্ষার নামে সহনশীলতা হারিয়ে ফেলে, যা সম্পর্ক ভাঙার দিকে ঠেলে দেয়।

বিবাহ বিচ্ছেদের প্রতিকার: বিবাহ বিচ্ছেদ কোনো সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। বরং তা অনেক সময় আরও বড় কষ্টের জন্ম দেয়।  তাই সম্পর্ক রক্ষার জন্য খোলামেলা আলোচনা ও যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।  সমস্যা দেখা দিলে তা এড়িয়ে না গিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করা উচিত।

মনোবিদ বা পারিবারিক কাউন্সেলিং অনেক সময় দাম্পত্য জীবনের সমস্যা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।  এছাড়া আর্থিক পরিকল্পনা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি, এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা বজায় রাখা সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে বড় কথা, ক্ষমা করতে শেখা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি।

বিবাহ বিচ্ছেদের প্রতিরোধ: বিবাহ বিচ্ছেদ রোধ করতে হলে প্রয়োজন বিবাহের আগে যথাযথ প্রস্তুতি ও সচেতনতা। দুজন মানুষের চিন্তাধারা, মূল্যবোধ ও জীবনের লক্ষ্য মিলিয়ে দেখা জরুরী।

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সহনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে শেখায়। পরিবার ও সমাজে যদি ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধি পায়, তবে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

তাছাড়া নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, এবং পরিবারে সহযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করা বিবাহ বিচ্ছেদ প্রতিরোধে সহায়ক। সরকার ও সমাজ উভয়েরই উচিত বিবাহ পরামর্শ কেন্দ্র গঠন ও সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা।

বিবাহ হলো ভালোবাসা, বিশ্বাস ও দায়িত্বের এক পবিত্র বন্ধন।  সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা মানসিক অস্থিরতার কারণে এই বন্ধন যেন ভেঙে না যায়, সেদিকে সকলেরই খেয়াল রাখা উচিত। সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, এবং ভালোবাসাই পারে একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে।  তাই বিবাহ বিচ্ছেদ নয়, বরং সম্পর্ক রক্ষা ও পুনর্গঠনই হওয়া উচিত জীবনের লক্ষ্য