ঢাকাবুধবার , ২২ অক্টোবর ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. কবিরহাট
  9. কৃষি ও কৃষক
  10. কোম্পানীগঞ্জ
  11. খেলাধুলা
  12. চাকুরি
  13. চাটখিল
  14. চাঁদপুর
  15. জাতীয়

বাংলাদেশে বিচার বিভাগ সংস্কার: স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের রোডম্যাপ

জহিরুল হক জহির
অক্টোবর ২২, ২০২৫ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

জহিরুল হক জহির >>>

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভ। তবে বিচারিক স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সময়সীমা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলো এখনো প্রকট। বিচার বিভাগকে আরও  স্বাধীন,জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করতে হলে কাঠামোগত সংস্কার, জনসম্পৃক্ততা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রয়োজন।

মূল চ্যালেঞ্জ:

  • রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ — বিচারক নিয়োগ, বদলি, ও বাজেট বরাদ্দে নির্বাহী প্রভাব।
  • মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা।
  • তথ্যের সীমিত প্রাপ্যতা ও জনবিশ্বাসের ঘাটতি।
  • বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মানবাধিকার ঝুঁকি।

প্রধান উদ্যোগ ও সংস্কার প্রস্তাব:

(১)স্বতন্ত্র বিচারিক সচিবালয়-

  • আদালতের নিজস্ব প্রশাসন ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
  • বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নির্বাহী প্রভাব কমানো।

(২)স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ ব্যবস্থা-

  • “Judicial Appointment Council” গঠন করে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগ।

(৩)বিচার বিভাগে আর্থিক স্বায়ত্তশাসন-

  • আলাদা বিচার বিভাগীয় বাজেট বরাদ্দ ও স্বাধীন তহবিল ব্যবস্থাপনা।

(৪)কেস ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা-

  • মামলার অগ্রগতি ট্র্যাকিং, ই-ফাইলিং, অনলাইন শুনানি— সময় ও ব্যয়ের সাশ্রয়।

(৫)জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি-

  • আদালতের রায় সহজ ভাষায় প্রকাশ, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার কার্যকর করা।
  • বিচার বিভাগের সংস্কারে নাগরিক পরামর্শ ও সিভিল সোসাইটির ভূমিকা নিশ্চিত করা।

(৬)বিচারপ্রার্থীর সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষা-

  • সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ইউনিট গঠন।
  • বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও সংবেদনশীল মামলায় গোপন বিচার প্রক্রিয়া।

ট্রানজিশন পিরিয়ড অর্ডিন্যান্সের গুরুত্ব:

  • সংস্কারের প্রাথমিক ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নে স্বল্পমেয়াদি অর্ডিন্যান্স কার্যকর হতে পারে।
  • তবে তা অবশ্যই সময়সীমাবদ্ধ, সংসদীয় অনুমোদনাধীন ও সাংবিধানিকভাবে বৈধ হতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য:

  • UN Basic Principles on the Independence of the Judiciary অনুযায়ী বিচার বিভাগকে নিয়োগ, বাজেট ও প্রশাসনে সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে হবে।
  • ভারত, নেপাল ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিচারিক সচিবালয় ও নিয়োগ কাউন্সিল সফলভাবে চালু রয়েছে— বাংলাদেশের সংস্কারে এগুলোর আদল অনুসরণযোগ্য।

প্রত্যাশিত ফলাফল:

  • বিচার বিভাগে আস্থা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।
  • মামলার নিষ্পত্তির সময় ৩০-৪০% পর্যন্ত হ্রাস।
  • ন্যায়বিচারের সমান সুযোগ ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত।
  • আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা।

নীতিগত বার্তা:
👉 বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা একে অপরের পরিপূরক।
👉 সংস্কার সফল হবে কেবল তখনই, যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ একসাথে কাজ করবে।

বাংলাদেশে বিচার বিভাগ সংস্কার: ৩/৬/১২ মাস মেয়াদী অ্যাকশন রোডম্যাপ :

বিচার বিভাগকে আরও স্বাধীন, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী করা, এবং বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও সমান ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

                  পর্যায়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা

সময়সীমা মূল কার্যক্রম দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা/পক্ষ প্রত্যাশিত ফলাফল
প্রথম ৩ মাস (তাৎক্ষণিক ধাপ) – বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন।
– বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রণয়ন।
– ট্রানজিশন অর্ডিন্যান্সের খসড়া প্রস্তুত।
– প্রধান বিচারপতির রোডম্যাপের প্রাথমিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন।
আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, সংসদ সচিবালয় । প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের ভিত্তি তৈরি, দ্রুত সংস্কারের সূচনা।
৬ মাসের মধ্যে (মধ্যম মেয়াদ) – Judicial Appointment Council- চালু।
– বাজেট স্বায়ত্তশাসনের রোডম্যাপ প্রকাশ।
– ডিজিটাল কেস। ম্যানেজমেন্ট ও ই-ফাইলিং সিস্টেম চালু।
– বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ইউনিট (Witness Protection Cell)  গঠন।
– RTI ও তথ্যপ্রকাশ নির্দেশিকা চূড়ান্ত।
সুপ্রিম কোর্ট, আইন মন্ত্রণালয়, তথ্য কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়। স্বচ্ছ নিয়োগ, আর্থিক স্বাধীনতা ও তথ্য-স্বচ্ছতা কার্যকর।
১২ মাসের মধ্যে (দীর্ঘমেয়াদি ধাপ) – বিচারিক সচিবালয় সম্পূর্ণরূপে কার্যকর।
– বিচারকদের বদলি/পদোন্নতির নিয়ম বাস্তবায়ন।
– বার্ষিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রকাশ।
– জনমত জরিপ ও সংস্কারের প্রভাব মূল্যায়ন।
– সংস্কারগুলোকে সংসদীয় অনুমোদন দিয়ে স্থায়ী আইন রূপে প্রণয়ন।
সংসদ, প্রধান বিচারপতি, সিভিল সোসাইটি, বার কাউন্সিল। পূর্ণ প্রশাসনিক স্বাধীনতা, জবাবদিহিমূলক বিচার ব্যবস্থা, জনআস্থা বৃদ্ধি।

                    সহায়ক উপাদান সমুহ

  • প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন: বিচারক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ (বিচারনৈতিক নীতি, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার)।
  • জনসম্পৃক্ততা: নাগরিক সমাজ, আইনজীবী সমিতি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সংলাপ।
  • মনিটরিং ও মূল্যায়ন কাঠামো: সংস্কার অগ্রগতির পরিমাপের জন্য ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন ও সূচকভিত্তিক মূল্যায়ন।

               -সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও প্রতিরোধ কৌশল-

চ্যালেঞ্জ ঝুঁকি প্রতিরোধ কৌশল
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। নির্বাহী কর্তৃত্বের প্রভাব। সংসদীয় তদারকি ও স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে ভারসাম্য।
প্রশাসনিক জটিলতা। সিদ্ধান্তে বিলম্ব। নির্দিষ্ট সময়সীমা ও KPI নির্ধারণ।
বাজেট সীমাবদ্ধতা। পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা (UNDP, JICA ইত্যাদি)।
পরিবর্তনের প্রতিরোধ। অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ। ধারাবাহিক পরামর্শ ও স্টেকহোল্ডার সম্পৃক্ততা।

        সাফল্যের পরিমাপক সূচক (Key Indicators)

  • মামলার গড় নিষ্পত্তি সময় ৩০-৪০% হ্রাস।
  • বার্ষিক জনআস্থা সূচকে উন্নতি।
  • বিচার বিভাগীয় বাজেটের স্বায়ত্তশাসন অর্জন।
  • RTI আবেদন নিষ্পত্তি হার ৯০% ।
  • স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব নতুন বিচারপতি নিয়োগ।

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে বিচার বিভাগ প্রশাসনিকভাবে স্বাধীন হবে, নাগরিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে, এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবাধিকারসম্মত একটি বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।