
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঘোষণা করেছেন,পিতা-মাতার ভরণপোষণ, বাড়ি ভাড়া, যৌতুক’সহ মোট ৮টি বিষয়ে এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের করা যাবেনা। মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান কার্যকর হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারিক ও সামাজিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং বিচার ব্যবস্থায় নতুন দিকনির্দেশনা স্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে সিলেটে কার্যক্রম উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার মাধ্যমে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুক’সহ অন্যান্য অভিযোগের ক্ষেত্রে মামলা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে। এটি শুধু বিচার ব্যবস্থায় জট কমাবেনা, বরং পরিবারের মধ্যেকার সম্পর্কও সুস্থ রাখতে সহায়ক হবে।
আইন সহায়তা প্রদান সংশোধন অধ্যাদেশের ক্ষমতার আওতায় এই কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে। নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা এবং রাঙ্গামাটি জেলায় এই প্রক্রিয়া প্রথমে চালু হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য জেলাগুলোর জন্যও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, প্রথমবারের মতো এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে মধ্যস্থতার মাধ্যমে পক্ষগুলো নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। এটি পরিবারিক বিরোধ মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বিচার ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় চাপ কমাবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ সমাজে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং ন্যায়বিচারের সহজলভ্যতাকে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক বিরোধের ক্ষেত্রে দ্রুত, ঝামেলামুক্ত এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান পাওয়া গেলে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে এবং মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
আইন উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারিক বিরোধ ও যৌতুক সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আসবে এবং এটি সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াবে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া কেবল আদালতের ওপর চাপ কমাবে না, বরং পারিবারিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতেও সহায়ক হবে।
এভাবে বাংলাদেশে পরিবারিক বিরোধ মোকাবেলায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে, যা বিচার ব্যবস্থা ও সমাজ উভয়কেই ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।

