ঢাকামঙ্গলবার , ২১ অক্টোবর ২০২৫
  1. NGO
  2. Uncategorized
  3. অপরাধ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. ইতিহাস
  8. কবিরহাট
  9. কৃষি ও কৃষক
  10. কোম্পানীগঞ্জ
  11. খেলাধুলা
  12. চাকুরি
  13. চাটখিল
  14. চাঁদপুর
  15. জাতীয়

সন্তান হচ্ছেনা অনেক দম্পতির, সমাধানের উপায়

জহিরুল হক জহির
অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Spread the love

বর্তমান সময়ে দেশে ও বিশ্বজুড়ে সন্তান না হওয়ার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় বন্ধ্যত্ব (Infertility)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন প্রতি ৭-৮জন দম্পতির মধ্যে অন্তত ১জন দম্পতি সন্তান জন্মদানের সমস্যায় ভুগছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, সন্তান না হওয়ার পেছনে রয়েছে নানা ধরনের কারণশারীরিক, মানসিক ও পরিবেশগত দিক। পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পুরুষ ও নারীর সমস্যা: বাংলাদেশ ইনফার্টিলিটি সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণে বন্ধ্যত্ব দেখা দেয়। শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া, মানহীন শুক্রাণু, ধূমপান, মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণ এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS), জরায়ু বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে সমস্যা, বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তন এবং স্থূলতা সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করে।

জীবনযাপন ও পরিবেশগত কারণ: বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, দেরিতে বিয়ে এবং দূষণও প্রজনন সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্লাস্টিক, কীটনাশক ও রাসায়নিক দ্রব্যের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার শরীরের হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করছে, যা প্রজনন প্রক্রিয়াকে ব্যহত করছে।

মানসিক ও সামাজিক প্রভাব: বাংলাদেশের মতো সমাজে সন্তান না হওয়া অনেক সময় মানসিক চাপ ও সামাজিক কটূ মন্তব্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে নারীরা এ বিষয়ে অন্যায়ভাবে দোষারোপের শিকার হন। এতে পারিবারিক সম্পর্কে অশান্তি, হতাশা ও বিষণ্ণতা দেখা দেয়।

চিকিৎসা ও করণীয় : বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান না হলে প্রথমেই দম্পতিদের উভয়ের চিকিৎসার জন্যে পরীক্ষা করা জরুরী। শুধুমাত্র নারীর নয়, পুরুষেরও সমস্যা থাকতে পারে, এটা বুঝতে হবে। প্রাথমিকভাবে হরমোন টেস্ট, সিমেন অ্যানালাইসিস ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে দেশে টেস্ট টিউব বেবি (IVF), ইনসেমিনেশন (IUI) ও অন্যান্য সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক দম্পতি সফলভাবে সন্তান লাভ করছেন। এসব চিকিৎসা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হলেও অনেকের জন্য এটি আশার আলো হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞের মতামত : গাইনোকোলজিস্ট ডা. নাজমুন নাহার বলেন, বন্ধ্যত্ব এখন আর অচিকিৎসাযোগ্য নয়। সময়মতো পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং জীবনযাপন পরিবর্তন করলে অধিকাংশ দম্পতিই সন্তান লাভে সক্ষম হচ্ছেন।

‎সচেতনতার আহ্বান : ‎ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বন্ধ্যত্ব নিয়ে লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরি। সমাজে সহানুভূতি ও বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি হলে অনেক দম্পতির মানসিক চাপ কমবে এবং চিকিৎসা নিতে উৎসাহ পাবেন। সন্তান না হওয়া কোনো ব্যর্থতা নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্য সমস্যা। ভালোবাসা, ধৈর্য, চিকিৎসা ও সচেতনতা দিয়েই এই সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।