
মানব জীবনে পরিবার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিতেই পরিবার টিকে থাকে। কিন্তু এই বিশ্বাস ও আস্থার ভেতর ফাটল ধরায় যে ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি তার নাম পরকীয়া। বর্তমানে আধুনিক জীবনযাত্রা, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে পরকীয়া ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—তিন স্তরেই ভয়াবহভাবে পড়ছে।
ব্যক্তিগত ক্ষতি: পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া ব্যক্তি মানসিকভাবে অস্থির হয়ে পড়ে। অপরাধবোধ, ভয় ও অনিশ্চয়তা তাকে অশান্ত করে তোলে। দাম্পত্য সম্পর্ক গোপন রেখে অন্য সম্পর্কে জড়ালে আত্মসম্মান ও মর্যাদা নষ্ট হয়। আবার একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশা করার ফলে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে লজ্জা, অনুশোচনা কিংবা সামাজিক চাপের কারণে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তও নেয় মানুষ।
পারিবারিক ক্ষতি:পরকীয়া সংসার জীবনের স্থিতি নষ্ট করে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও কলহ দেখা দেয়। এতে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিবাহবিচ্ছেদে পর্যন্ত গড়ায়। এর ফলে সন্তানেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে, পড়াশোনায় অমনোযোগী হয় এবং ভবিষ্যৎ জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি আইনি মামলা, সম্পত্তি ভাগাভাগি এবং আলাদা থাকার কারণে আর্থিক চাপও বেড়ে যায়।
সামাজিক ক্ষতি:পরকীয়া শুধু ব্যক্তি বা পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি সমাজেও নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। যখন এ ধরনের সম্পর্ক ব্যাপক আকার ধারণ করে,তখন সমাজে অবিশ্বাস, প্রতারণা ও অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে। খুন, আত্মহত্যা, ব্ল্যাকমেইল কিংবা মারামারির মতো অপরাধ প্রায়ই পরকীয়াকে কেন্দ্র করে ঘটে থাকে। তাছাড়া পরিবার ভেঙে গেলে সামাজিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে যায়, যা একসময় পুরো জাতিকেও প্রভাবিত করে।
পরকীয়া একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবার জন্যই ক্ষতিকর। এ থেকে মুক্ত থাকতে হলে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পরিবারে বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তি যত মজবুত হবে,সমাজও তত সুস্থ ও স্থিতিশীল থাকবে।

