নোয়াখালীতে বহুল আলোচিত ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগষ্ট) দুপুরে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ মো. শওকত আলী দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও পিপি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ নোয়াখালী সদরের মাইজদী বাজার পুরাতন কলেজ পুকুরে আসামি সৌরভ একটি কুকুর গোসল করাতে গিয়ে স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের অনুমতি ছাড়াই তার শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। এ নিয়ে আনোয়ার প্রতিবাদ করলে সৌরভ তাকে মারধর করেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সন্ধ্যায় পুরাতন কলেজ রোডে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সালিশ চলাকালে আনোয়ারের বন্ধু ফজলে হুদা রাজিব, সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম ও ইয়াসিন কুকুরকে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানোর প্রতিবাদ করেন।
এ সময় মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পির নেতৃত্বে আসামিরা সেখানে সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে ফজলে হুদা রাজিব (২৬), সাইফুল ইসলাম ওয়াসিম (২৫) ও ইয়াসিন (২৭) নিহত হয়।
নিহত তিনজনই নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজদী বাজার এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহত রাজিবের মা কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪২৭/১৬ এবং পরবর্তীতে দায়রা মামলা নম্বর ৭৬৫/১৯ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে আদালত আসামি ওমর সানি সাজু, ওমর শরিফ সুলতান ও সৌরভকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি, কুদরত উল্যা ও হারুন অর রশিদ বাবুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বরকত উল্যা রাশেদ এবং পিপি তাফাক্কার হোসেন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
মামলার আসামিদের বাড়িও মাইজদী বাজার পুরাতন কলেজের অনন্তপুর এলাকায় বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।