একটি জাতির চোখ, কান এবং কণ্ঠস্বর—এই তিনটি শব্দেই একজন প্রকৃত সাংবাদিককে সংজ্ঞায়িত করা যায়। যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, তখনও অনেক সাংবাদিক সত্যের সন্ধানে ছুটে বেড়ান। যখন কোনো দুর্ঘটনা, দুর্যোগ বা অন্যায় ঘটে, তখন নিজের নিরাপত্তার কথা ভুলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান, যেন মানুষ সত্য জানতে পারে। তাদের হাতে থাকা কলম আর ক্যামেরা শুধু পেশার উপকরণ নয়; অনেক সময় তা হয়ে ওঠে ন্যায়বিচারের শক্তিশালী অস্ত্র।
সাংবাদিকের কাজ কখনোই শুধু সংবাদ লেখা নয়। তাদের কাজ হলো= মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা, নিপীড়িতের আর্তনাদ সমাজের সামনে তুলে ধরা এবং ক্ষমতাবানদের মনে করিয়ে দেওয়া যে প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হয়। একজন সৎ সাংবাদিক সত্যের সঙ্গে কখনো আপস করেন না, কারণ তিনি জানেন—একটি মিথ্যা সংবাদ হাজারো মানুষের জীবনকে বিভ্রান্ত করতে পারে, আর একটি সত্য সংবাদ সমাজে পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
আমরা অনেক সময় সংবাদ পড়ি, দেখি বা শুনি, কিন্তু সেই সংবাদ সংগ্রহের পেছনের ত্যাগ, পরিশ্রম এবং ঝুঁকির কথা ভাবি না। ঝড়, বন্যা, আগুন, সংঘাত কিংবা সংকট—সবকিছুর মাঝেও তারা মানুষের জন্য তথ্য নিয়ে আসেন। অনেক সাংবাদিক হুমকি, অপবাদ, এমনকি জীবনের ঝুঁকিও মোকাবিলা করেন, তবুও সত্য প্রকাশের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যান না।
তাই সাংবাদিকদের সম্মান করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান করা নয়; সত্যকে সম্মান করা, ন্যায়কে সম্মান করা এবং মানুষের জানার অধিকারকে সম্মান করা। অবশ্য সব সাংবাদিক একই রকম নন। কেউ ভুল করতে পারেন, কেউ পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘনও করতে পারেন। সেই ভুলের সমালোচনা অবশ্যই হওয়া উচিত। কিন্তু কয়েকজনের ভুলের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজের অবদানকে অস্বীকার করা ন্যায়সংগত নয়।
একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেখানে সত্য বলার মানুষ থাকে। আর সেই সত্যের পথচলায় সাংবাদিকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাই আসুন, আমরা সৎ, সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের যথাযথ সম্মান করি, তাদের কাজের মূল্য দিই এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে সত্যকে কখনো ভয় পেতে না হয়। কারণ সত্যের আলো যতদিন জ্বলবে, ততদিন একটি জাতির বিবেকও জীবিত থাকবে।