দেশের অর্থনীতি যত উন্নয়নের কথাই বলুক না কেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যদি ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেই উন্নয়নের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছায় না।
তাই জাতীয় বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে।
বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে এমন একটি বাজেট প্রয়োজন, যেখানে চাল, ডাল, তেল, আলু, সবজি, মাছ, মাংশ ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং কৃষি ও উৎপাদন খাতে পর্যাপ্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।
পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
বিলাসী পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পণ্যের ওপর করের চাপ কমানো যেতে পারে, যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হবে।
একটি জনবান্ধব বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করা। তাই বাজেট যেন শুধু পরিসংখ্যানের হিসাব-নিকাশে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের মুখে হাঁসি ফোটানোর বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় পরিণত হয়—এটাই দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশা।